বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

মুখোমুখি আমি আর চৈত্রের দুপুর

মুখোমুখি আমি আর চৈত্রের দুপুর

বাবলু আহির


মুখোমুখি আমি আর চৈত্রের দুপুর

দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে অপলক

আমরা যেন কেউ পরস্পর পরস্পরকে

কোনো দিন এতো ভালো করে দেখিনি।


দুজনের চোখে বিস্ময়

এভাবে কয়েকটা মুহূর্ত গেল

এরপর যেন ম্যাজিকের মতো বদলে যেতে লাগলো

মুখ আর মুখের ভাষা।


আমরা এখন একে অপরের বর্ণমালা চিনে ফেলেছি

আমাদের মধ্যে আর কোনো রহস্য নেই

দুজনেই দুজনের উপন্যাসের অন্তিম অধ্যায়ে

আমরা দুজনেই বৃষ্টির অভাব বোধ করছি।

বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

স্বপ্ন দেখি

স্বপ্ন দেখি


বাবলু আহির


জানো কাকলি,

তুমি চলে যাওয়ার পর

এই বাগান ভেঙে পড়লো শোকে

ঝরে পড়লো পাতা, কুঁড়ি একে একে সব।


ঝলসে উঠলো ঘাস ঊষর হলো মাটি

মরু এসে গ্রাস করলো সব

ছায়া চাই ছায়া যে খুব দরকার

আবারও স্বপ্ন দেখি, থামতে নেই।


ধ্বংসস্তূপে জেগে উঠল সবুজ

কুঁড়ি এল রং এল

পাল্লা দিয়ে ঝড় এল

আমি স্বপ্ন দেখতে বসলাম আবার।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হাত চলে যায়

হাত চলে যায়


বাবলু আহির


রান্নাঘরে কিছু ভাজা চলছে

শব্দ পাচ্ছি কিন্তু আন্দাজ করতে পারছি না

কিছুক্ষণ আগেই নতুন পেঁয়াজ নেওয়ার খসখসে শব্দ

কলতলায় কেউ একজন হাত ধুতে এলো।


কলতলা, রান্নাঘর,গোয়ালঘর

কত সহজেই আমি ঘুরে আসতে পারি

যেতে পারি গামছাটা কাঁধে ফেলে

দিগন্তের কাছাকাছি যেখানে মানুষ থাকে।


সেইসব সাদাকালো ছায়াছবির কাহিনীকে

কত যে রঙিন করে তুলি স্বপ্নের মতো!

এভাবেই চলে যায় দিন, চলে যাচ্ছে রাত

পায়ের আগে হাত চলে যাচ্ছে নয়তো প্রিয় লাঠি।


রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শেষ উপহার

শেষ উপহার


বাবলু আহির


তোমাকে তো দিয়েছি আমার প্রদেয় যথারীতি-

এত্তো টুকু ছিলো না কার্পণ্য!

ঘর্মাক্ত ক্লান্ত দেহে ঘরে ফিরলে

উজাড় করে দিয়েছি সেবার অর্ঘ্য,দিয়েছি বিশুদ্ধ প্রেম।

বিধ্বংসী ঘুর্ণিঝড়ে বুক পেতেছি কতবার!

কতদিন তপ্ত নিঝুম দুপুরে পুড়েছি একাকী-

তবুও ভালোবেসে দিয়ে গেছি দিবানিদ্রার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।

মনে পড়ে, একদিন আমার পিঠে পিঠ দিয়ে

গোধূলির রং মাখতে মাখতে শুনতে চেয়েছিলে

জীবনের সুর প্রেমময় গানে গানে!

সেই জলসায়, সেই আনন্দের মেলায়

আমাকে দিলে তোমার উদার হাসি;

সেই উপহার আজো রাখা আছে হৃদয়ে অতি যতনে!

মনে পড়ে, তোমার মনের কষ্টগুলো কতবার

অশ্রু হয়ে ঝরে গেছে আমার শরীর বেয়ে-নিবিড় আলিঙ্গনে।

মনে পড়ে, তুমি ঘুমিয়ে পড়লেও অন্দরে টেনে নিতে

আমার সুঘ্রাণ...

তুমি বলতে ওটা বাঁচার রসদ !

আমি বলতাম, না গো না !এটা আমার প্রতি তোমার বাড়াবাড়ি!

তুমি অজান্তে পাশ ফিরেই আমাকে না পেয়ে ঘুমের ঘোরে ছুটে আসতে উঠোনে-

দেখতে, আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে;

জ্যোৎস্না রাতে ,চুপিসাড়ে পেছনে এসে জড়িয়ে ধরতে আমায়!

মনে পড়ে,রান্না ঘরে উঁকি দিতে যখন তখন

প্রাতঃরাশের টেবিলে থেকে ভেসে আসতো টুং টাং শব্দ।

মনে পড়ে, তোমার নিজের হাতে আমার মুখে তুলে দিতে গ্রাস;

গ্লাসে জল নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে অপলক!


আমাকে এত্তো ভালোবাসতে?

কেন তবে আজ এভাবে নীরবে দাঁড়িয়ে?

আমার খণ্ড খণ্ড অঙ্গের স্তুপে কী দেখছো অমন তাকিয়ে?

দেখো, প্রতি খণ্ডে তোমার ভালোবাসা কেমন লেপ্টে আছে!

তোমার থেকে পাওয়া আমার শেষ উপহার..

করাতের দাগগুলো তেমনি আছে আজো!



৯ই আশ্বিন,১৪২৫

মেদিনীপুর



শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শরৎ নিশান

শরৎ নিশান

বাবলু আহির


আনমনে কে গাইছে ভোরাই স্নিগ্ধ শরৎ প্রাতে!
পাপড়ি মেলে পদ্ম যে তার, ভোমরা মাতে তাতে।
শিউলি ঝরে রাশি রাশি শিশির ঝরা ঘাসে
শরৎ ঊষার সাথে সাথে শাপলা শালুক হাসে।
ওই যে দূরে খালের পাড়ে হাসছে কিছু কাশ
আসছে উমা ধরা মাঝে দিচ্ছে তারই আভাস।
সবুজ মাঠে শুভ্র নিশান কিষান মাখে খুশি
নীল সাগরে পাল তুলেছে ওই যে ভিনদেশী!
বঙ্গরানীর অঙ্গে অঙ্গে শরৎ রানীর বেশ
বঙ্গবাসীর মনে প্রাণে আগমনীর আবেশ।


02/09/2018
মেদিনীপুর।
Copyright@B.Ahir

শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ছেলেটি দাঁড়িয়েই আছে

ছেলেটি দাঁড়িয়েই আছে


বাবলু আহির


ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে স্থির যেমনটি দাঁড়িয়ে আছে

গণেশ আর কার্তিক তাঁদের মায়ের পাশে।

ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায়

যেখানে ভিড় একটু কম

পুজো মণ্ডপের প্রবেশ পথের এক্কেবারে ধারঘেঁষে।

দর্শনার্থীদের ঢল আসছে যাচ্ছে

দেখছে মণ্ডপের কারুকার্য, আলোর আশ্চর্য খেলা

কেউবা তুলে নিচ্ছে নিজের নিজের ছবি

মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটের ঝলকে।

ছেলেটি কিন্তু নড়ছে না ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে

ও তো মণ্ডপের মূর্তি নয় তাই অসতর্ক দর্শনার্থীরা

নাড়িয়ে দিয়ে যায় তাদের চলাচলের পথে।

তবুও সে স্থির থাকতে চায়, চেয়ে থাকে জিলিপির

দোকানের দিকে।

বুকফুলিয়ে শুষে নেয় মিষ্টির সুঘ্রাণ,

পেটটা বেশ ভরা ভরা লাগে, ইচ্ছে করে নিঃশ্বাসটা

ধরে রাখে যতক্ষণ না ছটফটিয়ে উঠে তার প্রাণ

নতুন প্রাণবায়ুর জন্য।

ছেলেটি দাঁড়িয়েই থাকে স্থির দৃষ্টিতে

মিষ্টি আর তার মাঝে খরিদ্দারের ছায়া পড়লে

মাথাটা হেলিয়ে দেয় চকচকে মিষ্টিগুলোকে

চকচকে চোখের পর্দায় আনার জন্য।

বামে ডাইনে সামনে কখনো বা উঁচু করতে হয় গলাটি।

ছেলেটি দাঁড়িয়েই থাকে।

এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাল্কা হয় ভিড়

খালি হয়ে আসে মিষ্টির পাত্রগুলো 

চোখের পাতায় নামে অতৃপ্তির অবসাদ

শরীর জুড়ে নামতে থাকে অবসন্নতা

শুধু পেটটা ওদের তালে তাল মেলাতে পারে না।

ছেলেটি এবার পেছন ফিরে

দূর থেকেই দুগ্গা মাকে দেখে নেয়

আর অমনি দুটো চোখ বেয়ে নেমে আসে নোনতা জল

মাটিতে পড়ার আগেই জিভ দিয়ে টেনে নেয় দ্রুত।

না,ও খিদের জন্য কাঁদছে না

ও কাঁদছে দুগ্গা মায়ের মুখে ওর মায়ের মলিন মুখটা

হঠাৎই ভেসে উঠেছিল বলে।



২৯ই আশ্বিন ১৪২৫

মেদিনীপুর।


বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

meghla Akash

শাড়ির ভাঁজে


বাবলু আহির


আজ ষোলো বছর তোমাকে দেখিনি

তবু দিব্বি চলে যাচ্ছে-

চলে যাচ্ছে সময়, চলে যাচ্ছে বর্তমান

মনের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি তোমার সেকেলে ছবি।


আমি অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠি

উজানের সাঁতার শিখিনি আজো

নিজেকে গুছিয়ে নেব বলে প্রতিজ্ঞার ঘটা

সকালে উঠে দেখি অগোছালো রাত।


তোমাকে দেওয়া সোনালী সেই হাতঘড়ি

আজো কি সচল?

আজো কি পরো?

আগের মতো যেন হাত লুকিয়ো না শাড়ির ভাঁজে।

মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

উনুনের পাশে

উনুনের পাশে


বাবলু আহির


সবে তো চৈত্র শুরু হয়েছে

ঝলসে ওঠা ঘাসের মতো পেরিয়ে এসেছি বত্রিশটা চৈত্র

উত্তপ্ত এই বুকে এক পশলা বৃষ্টির খুব দরকার ছিল

জরুরী ভিত্তিতে কিছু বৃষ্টির ফোঁটা

পোড়া মনের শেষ ইচ্ছা।


ইচ্ছেরা নিষ্ফলা মেঘের মতো

উড়ে যায় দূরে-

হয়তো বা তারও দূরে রূপকথার মতো

ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির প্রয়োজন পড়ে।


হেরে যাওয়া গেরস্থালির অন্তরে

বাষ্পীভূত হয় কলরোল

আমি এই চৈত্রের দূপুরে কেমন শুকিয়ে উঠছি

উনুনের পাশে ঘেমে গেছে বর্তমান।

বিষন্ন সেদিনের কথা

বিষন্ন সেদিনের কথা

বাবলু আহির


হ্যালো! কে? সোনালি?

জানিস সোনালি--

আজ বারবার মনে পড়ছে তোর কথা,

তোর সাথে মিশে থাকা সেদিনের স্মৃতি

ম্লান করে অনায়াসে বর্তমানের ঔজ্জ্বল্য!

আচ্ছা সোনালি, তোর কি মনে পড়ে--

ফেলে আসা আমাদের গ্রামের কথা?

যেখানে ফেলে এসেছি

পাখিদের সংসার, আম-কাঁঠালের বন,

বৌ ডু-ডু,কিত্-কিত্ আর

বালি দিয়ে গড়া তোর-আমার শৈশবের খেলা ঘর।

আজ, এই জৈষ্ঠ্যের পড়ন্ত বিকেলে

বারবার মনে পড়ছে, বিষন্ন সেদিনের কথা!

তোর কি মনে আছে--

আমাদের বাড়ির উঠোনে

পেয়ারার গাছ আর তার ডালে-

দুলতে থাকা শালিখের সংসার।

শালিখ দুটো যেদিন প্রথম এলো,

চোখে ছিল স্বপ্নের মায়া;

সৃষ্টির মত্ততায়

একজনের হলুদ ঠোঁট

আদরে ভরলো অন্যজনার লাজুক ঠোঁট,

কাঁপলো হিয়া নিবিড় উষ্ণতায়!


আর আমরা,

ধুলো বালির খেলা ফেলে

আনমনে দেখলাম খড়কুটোর বুনন।

ওদের গা ঝাড়া,ফুড়ুৎ করে উড়ে যাওয়া

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল

প্রায় দুটো মাস।

পশ্চিম আকাশ জুড়ে যখন গোধূলি খেলতো

তার রঙের খেলা--

খুসিতে আত্মহারা হতাম দুজনে

বাচ্চাগুলোর কিচিরমিচির ডাকে!

তারপর, ঠোঁটে করে ফড়িং আনলেই

সংসার জুড়ে ছুটতো খুশির ফোয়ারা।


কিছু দিন কাটলো এভাবেই,

তারপর একদিন,

ওরা বাবা মায়ের সাথে

বেরিয়ে এলো প্রকাশ্যে;

সেভাবে উড়তে শেখেনি,

তাই ওড়া শিখতে শিখতে

বাড়ির পাঁচিল টপকে গেল।

নতুন উড়তে শেখার আনন্দে

বাঁধনহারা, অনেক অনেক উঁচুতে

উড়তে চায়,ক্লান্ত হলে নেমে আসে

বাবা মায়ের কাছে।

এমন সময়, পাড়ার ছেলেগুলো,

কোথায় ছিল, সদলবলে এলো ছুটে,

এলোপাথাড়ি চলল--ঢিল,লাঠি, গুলতি!

বাবা শালিখ-মা শালিখের

বিপদের চ্যাঁ-চ্যাঁ চিৎকার,

নিরুপায় বাতাস তার কাজে 

ফাঁকি দেয়নি,করুণ কান্না পৌঁছেছিল

সবার কানে কানে!

কিন্তু হায়!কেউ আসেনি সেদিন

ওদের পাশে।

প্রকাশ্যে খুন হলো, অসহায় তিনটি

শালিখ ছানা!

সদ্য গজানো পালক উপড়ে,

আগুনে ঝলসালো কচি দেহ!

আমাদের মানা মানলো না কেউ,

শুনলো না, আমাদের কান্না!


আজো, ওদের সেই বিপদের

চিৎকার, যখন তখন আমার

কানে বাজে--কংক্রিটের দেয়াল

আলগা হয়, মনের আকাশে

ছায় বিষন্নতার মেঘ!

সোনালি, তোরও কি মনে পড়ে,

বিষন্ন সেদিনের কথা?


22/06/2018

মেদিনীপুর।

Copyright@B.Ahir

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হতে পারে

হতে পারে

বাবলু আহির

রান্নাঘর ঘর থেকে ভেসে আসছে শব্দ
অপূর্ব গ্রাম্য ঘ্রাণ চারপাশে
ভালো লাগে দূরে থেকে
অনেক দূরের কোনো ছবি আঁকতে।

দূরত্বের যে রং আমি ব্যবহার করেছি
অনেকে তার নাম দিয়েছে বিষন্নতা
অলসতার সংজ্ঞাও শুনতে হয়েছে
আমাকে ঘিরে আছে খুব পরিচিত দেওয়াল।

দেওয়াল তৈরিটাও একটা শিল্প
একটা প্রয়োজনীয় আঙ্গিক
এসব কিছুকে ফাঁকি দিয়ে
ভেসে যাওয়াটার রং ভেসে যাচ্ছে।

শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ওরা কারা

ওরা কারা


বাবলু আহির


যে গলিতে আমার বাস

এইমাত্র একটা লম্বা মিছিলের স্রোত বয়ে গেল

কেঁপে উঠলো সংকীর্ণ অলিন্দ শ্লোগানের ঝংকারে।

কংক্রিট উঠোনে দাঁড়িয়ে চোখ খুব ব্যস্ত

কার অন্বেষণে জানিনা।


কণ্ঠ থেকে ছিটকে যাওয়া অবাধ্য স্বর

শ্লোগানের সাথে আত্মীয়তা করতে করতে

ফিরে আসে জিজ্ঞাসা হয়ে

কী হলো, চিনতে পারছোনা?

তাপ হারালো কংক্রিট মেঝে

গভীর হলো কপালের ভাঁজ

উত্তরের  অপেক্ষা না করেই এগিয়ে চললো মিছিল!


সারির শেষ অংশও ঝাপসা হয়ে আসে

আবছা স্মৃতির আলোআঁধারিতে

জিজ্ঞাসা হাতড়ে বেড়ায় তার প্রিয় উত্তরকে

স্তম্ভিত দেহের অস্থির মন বারবার জ্বালে আলো

কে যেন আসে আর নিভিয়ে দিয়ে যায় তার শিখা।

ছুটে চলে সন্ধ্যা, গাঢ় হয় আঁধার চাঁদের লোভে

উৎসুক সপ্তর্ষিমণ্ডল ইশারা করে-

মিছিলের সারিতে ওরা কারা?


শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সুরাহা

সুরাহা


বাবলু আহির



সবুজ খেত তার খেলা শেষে

ফিরতে চাইছে ঘরে,

বিরোহী উঠোনে উত্থলে উঠছে

প্রেম ভাপ,শূন্য থালার কথাকলি

তুলসি-মঞ্চ ঘিরে মায়াবী জীবন।


প্রতিরাতে জাপটে ধরেছি একতারা

সাধনার শেষ নেই জেনেও,

সবুজ এসেছে

সুগন্ধ এসেছে

এসেছে সেই নিশাচর বুড়িটাও

ভোর শেষে সকাল এসেছে

কই সুরাহা তো আসেনি আজো।

বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

খুঁজে পেলাম না

খুঁজে পেলাম না


বাবলু আহির


সেটাও তো একটা বসন্তেরই দিন ছিল

বাসন্তী রঙ ছিল

উৎসবের আমেজ ছিল

আমি জীবন পথের মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম


ব্যথার স্তুপে আগুন জ্বালিয়ে

আমি হাসছিলাম

আমি পা বাড়ালাম

কৃষ্ণচূড়া স্বাগত জানাল-সুস্বাগতম


আমি পৃথিবীর দিকে তাকালাম

চারদিক হেসে উঠলো

পরেরবার আবারো এলাম

কিন্তু সেই কৃষ্ণচূড়াকে আমি খুঁজে পেলাম না।

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সবুজাভ গন্ধ

সবুজাভ গন্ধ


বাবলু আহির


আমার এই টিনের ঘরে

একটাও জানলা নেই

কোনো মতে আকাশ আর বাতাসকে

আড়াল দিয়ে তৈরি মাথা গোঁজার ঠাঁই।


সে একটা সময় ছিল

বর্তমানটাই ছিল ভবিষ্যতের বেঁচে থাকা

সে একটা সময় ছিল

বসন্তকে ডিঙিয়ে বৈশাখীর আতঙ্ক।

ঝড় থেমে যাবে বলে যারা পাশে ছিল

তাদের বুকেই বসন্ত ছিল

আমার আকাশ জুড়ে ছিল ছেঁড়া কালো পলিথিন

আর কেঁপে ওঠা বাতাস।


বত্রিশটা বসন্ত গেছে নিলামে

শরীর জুড়ে নীলকুঠির সাহেবের হিসাব

লালবাড়ির অবহেলা অন্তরে

শূন্য থালায় মিশে আছে হলুদের সবুজাভ গন্ধ।


সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রহস্যভেদ পুরোহিতের কাজ নয়

রহস্যভেদ পুরোহিতের কাজ নয়


বাবলু আহির


চ্যানেলটা না বদলে বরং ঘুরে আসা যাক

খোলা মাঠে, ঝুল বারান্দায়-অন্তরে

চারিদিকে শুধু সত্যের নিরুদ্দেশ বিজ্ঞপ্তি

নিচে ছোট করে লেখা-পোড়া রুটিতে কি মাখন ছিল?


এভাবে হাত গুটিয়ে

কতক্ষণ বসে থাকা যায়?

বরং জেগে থেকে ঘুমিয়ে পড়া যাক

ততক্ষণ জলের বাষ্পায়ন চলুক।


মাছেরা দলবদল করে?

হুম্, তবে জলের স্তর কমলে কিছু একটা হয়

বক কাদা মাখে?

তা মাখুক,রহস্য ভেদ পুরোহিতের কাজ নয়।



হারিয়ে ফেলেছি

হারিয়ে ফেলেছি

বাবলু আহির

আজ ষোলো বছর পর তোমাকে দেখলাম
ফেসবুকের ফ্রেমে
বাসন্তী রঙের সেই চেনা সাজ
পিঠের উপর খোলা চুল কোমর ছাড়িয়েছে
সানগ্লাসে ঢেকে আছে চোখ
না, কেউ ভুল করেনি
সঠিক সময়েই সংকেত পেয়েছে হৃদয়
পার্কের ফুল গাছগুলোর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলে তুমি
তখন আমি অনেক অনেক দূরে
তবুও অনেক কাছাকাছি মনে হলো
সেই হাসি, সেই মাধুরী
একদিন আমি তোমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম
আমার জীবনের প্রান্তরে
এতো দ্রুত সম্মতি জানিয়ে ছিলে
যে এখনো অবাক হই

ফেসবুক বলছে তুমি ভালো আছো
স্বস্তি পেলাম
তোমার ছবি বলছে তুমি সুখেই আছো
শান্তি পেলাম
তোমার হাসি বলছে তুমি কাঁদতে ভুলে গেছো
খুশি হলাম
কেন কাঁদবে?কার জন্য কাঁদবে?
এতো দিনে আমিও বুঝে গেছি-
কারো কিচ্ছু যায় আসে না

পৃথিবীতে মরুভূমির কোনো প্রয়োজন ছিল কি?
সকলেই উত্তর দিয়েছে
খুঁজে এনে যুক্তির খুঁটিতে বেঁধে
এই বালিকে আঁকড়ে ক্যাকটাস হয়ে আছি
আর কোনো দিন তোমাকে আমন্ত্রণ জানাবো না
এই কাঁটার দেশে, এই বালির দেশে
আত্মরক্ষার নানা কৌশল আমি শিখে গেছি
কাঁটা দিয়েই সাজিয়ে নিয়েছি নিজেকে
ফুলের মতো
চাঁদের আলোয় রূপকথার মতো

সেসব কথা থাক
তুমি নিজেকে গুছিয়ে উঠতে পেরেছো
তার জন্য কুর্নিশ
তোমার সব পছন্দ গুলো স্বাধীনতা পেয়েছে
তার জন্য শুভেচ্ছা
আমি দুঃখিত, তোমার দেখানো পথ
আমি হারিয়ে ফেলেছি।

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ওই ছেলেটা

              ওই ছেলেটা



ওই ছেলেটা, এদিক তাকা

আমার আকাশ তোর মেঘেতে ঢাকা

তোর মনেরই কালো ধোঁয়ায়

আমার আকাশ একলা গোঁঙায়!


আমার আকাশ কিনবি বলে তুই

সুকৌশলে বিলিয়ে দিলি ভুঁই

গিললি যত সমাজ রক্ষার বই

তবুও আমায় বাঁধতে পারলি কই?


ওই ছেলে,বাঁধবি নাকি

পাড়ের বাঁধন, আছে বাকি?

আমার বুকে চলছে সমাজ-ভেলা

ঢেউয়ের সামাল তুই দিবি ক'বেলা?


ওই ছেলেটা,তিন ভাগ যে জল

উঠলে গর্জে বাঁচবে তোর স্থল?

চতুস্পদে হেঁটেই শুধু গেলি

আয় না, এবার পাহাড় চূড়ায় খেলি।



মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০২২

সব কিছু সহজ নয়

সব কিছু সহজ নয়


বাবলু আহির


খুব সহজেই আকাশ হওয়া যায়

নদী হতে সময় লাগে

ঢেউ হওয়া যায় খুব সহজেই

মাঝ সমুদ্র হতে সাহস লাগে।


আমি নদীর কাছে গেছি

সে আমাকে না চেনার ভান করেছে

মুখ তুলেছি আকাশের দিকে

আকাশ হেসেছে নীল হাসি।


মাটির দিকে তাকিয়েছি

তাকে খুব তৃষ্ণার্ত লেগেছে

নদী ফিরবে না কোনো দিন

ও যে জোয়ার ভাটা খেলতে চায়।


সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০২২

নিজেই গেল হেরে

নিজেই গেল হেরে


বাবলু আহির


স্বহস্তে যাকে শিখিয়ে ছিলাম

অ এ অজগর,আ এ আম,ই এ ইঁদুর…

আজ সে বহুদুর

অতীতের পাতায় ব্যঞ্জনে ব্যঞ্জনে

হারিয়ে ফেলেছে নিজস্ব সুগন্ধ

বিষাদের বাতাসে মিশে।


নরম তুলতুলে হাতটা বর্ণের খাঁজে খাঁজে

স্বাভাবিক গতিতে চলতে গিয়ে

অবাক চাহনিতে কাব্যস্মৃতির বর্ণমালা লিখে গিয়েছিল।

আজ সেই বর্ণমালা সাজাতে গিয়ে ভিড় করল আবেগ

উপচে পড়া সেই ভিড়ে

কোথায় মিলিয়ে গেল সে কে জানে!


সোনা ঝরা শীতের সকালে সুবোধ বালকটি

মিষ্টি সুরে পাঠের অনুশীলন করতে করতে

কখন যে বড়ো হয়ে গেল!

তার ইশারায় সাড়া দিয়ে মাথার উপর সূর্য এলো

হঠাৎই গ্রহণ লেগে আঁধার হলো যেই

নিভে গেল জীবন দীপ ভুল বাতাসের ঝাপটায়!


আঁধার শেষে আলোর জগতে

ভুল বাতাস নাম বদলে ফেলে পলকে

দিক বদলে দখিণা হয়ে স্বান্তনা দিয়ে যায় জ্বলন্ত বুকে।

মাথার উপর ঘুরতে থাকা ফ্যানটা মনে করিয়ে দেয়

সে যে জীবনের লড়াইয়ে আবেগের ঘূর্ণি টেনে

নিজস্ব উদ্যোগে নিজেই গেল হেরে!

শনিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২২

ওরা কি সত্যিই এসেছিল?

ওরা কি সত্যিই এসেছিল?

বাবলু আহির

আজ বড্ড অবেলায় এসে
রোজের আড্ডায় বাসটা ফেল করলাম।
সূর্য ছেড়ে গেছে কর্তব্যের সই রেখে
সবুজের গোড়ায় সন্ধ্যা নেমেছে জোর করে
রাসায়নিক আলো তার অস্তিত্বের লড়াই করছে এখন।
মহুয়া দি, সবিতা দি আলাপী ভঙ্গিতে কিছু উচ্ছিষ্ট
ছড়িয়ে দিয়ে গেছে কোমল তৃণে।
মুচমুচে হাসির ঠোঙা গুলো শিশির মাখছে সান্ধ্য হাওয়ায়।
ওরা চলে গেছে সময়ের টানে!
আমার অসময় হিঁচড়ে টেনে এনে আমাকে এখানে একলা করতে চেয়েছিল
হেরে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে ঘুমের ভাঁজে।
আমি স্পষ্ট দেখছি
ভাস্করদার সর্বাঙ্গ সবুজ হচ্ছে
হাসছে কিংশুকদার কিরণ ব্যস্ততার ছটায়।
আজ কি পাপন এসেছিল?
ও বোধহয় ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বালাতে ব্যস্ত!
আমার সারাদিনের ক্লান্তিকে এখানে কবর দিতে এসে
থমকে দাঁড়িয়ে আছি;
অদূরে ছায়া ছায়া কৌতূহল উপহাস করছে-
ওরা কি সত্যিই কেউ এসেছিল?


09/09/2018

শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০২২

দ্বৈত শাসন

দ্বৈত শাসন

বাবলু আহির

এই তো সেদিন উৎসবের দিনগুলোতে
বৃষ্টি ভেজা শীত অনাহূতের মতো
হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়েছিল বাংলায়।

শরতের নির্ধারিত সময়ের দখল নিতে
নয়তো অকাল বোধন দেখার ইচ্ছে নিয়ে
অতিথি হয়েছিল পুজোর কটা দিন!

উৎসবে মাতোয়ারা মানুষের ঢল দেখে
সেই যে মুখ লুকিয়েছে
দক্ষিণ বঙ্গে এখনো তার পাত্তা নেই।

বাংলার গ্যালারি ভরা মৌসুমির দর্শক
ছয় খেলোয়াড় প্রকৃতি সাজায়
একেক রূপ ও রঙের ছটায়।

হেমন্তের শেষ বিকেলটাও ঘামছে
দ্বৈত শাসনের ক্ষমতাহীন নবাব
কান ধরে ওঠবস করে
আর আমরা ভাবছি ব্যায়াম করছে!


প্রদীপের দৃষ্টি


প্রদীপের দৃষ্টি


বাবলু আহির


গ্রামের নাম মধুপুর।শহর থেকে পনেরো কিলোমিটার দূরের এক সাধারণ গ্রাম। গ্রামের বেশিরভাগই খেতমজুর আর চাষি। গ্রামের মাঝখানে একটি প্রাচীন প্রাইমারী স্কুল। ঠিক তার পাশেই শিশুদের জন্য একটি আইসিডিএস স্কুল। সারা গ্রামের সব শিশু না আসলেও বেশ কিছু শিশু রোজ আসে এখানে। কেউ আসে ঠাকুরমার হাত ধরে তো কেউ আসে মায়ের সাথে। স্কুলের দিদিমণির বয়স প্রায় পঁয়তাল্লিশ। অবিবাহিত। পাশের গ্রাম থেকে আসেন।যিনি রান্না করেন তিনি গ্রামের। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি।রোজ কারো না কারোর সাথে বাকযুদ্ধে লিপ্ত থাকতে ভালোবাসেন।


গ্রামের শেষ প্রান্তে বাগাল পাড়া।পাড়ার সবাই খেটে খাওয়া মানুষ। সকালের মেলা কাজ ফেলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে যাওয়াটা তাদের কাছে বিলাসিতার মতো।এই পাড়ার একমাত্র শিক্ষিত ছেলে পিন্টু। অনেক দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করে আজ সে স্নাতক। বেকার যুবক।বিয়ে করেছে প্রায় সাত বছর হলো। কিছু টিউশন করে আর স্বপ্ন দেখে ছেলে দারিদ্র্যের ছোঁয়া থেকে দূরে রাখবে।মস্ত মানুষ তৈরি করবে। তাই ছেলের বয়স পাঁচ না হতে হতেই ভর্তি করে শহরের স্কুলে।রোজ গাড়ি আসে তাকে নিয়ে যায়। না, কোনো জোরজুলুম সে করে না ছেলের উপর। ছোট্ট সংসার। বেশ হাসি খুশিতে কেটে যায় দিন।


ছেলেকে নিয়ে প্রথম ক'দিন শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছিল। কিন্তু দিদিমণির উদাসীনতা পিন্টুকে হতাশ করে। পিন্টুর ছেলে প্রদীপ এখন পাঁচ বছরে পড়েছে।


পিন্টু গত পরশু দিন পাশের গ্রামে উপসাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছিল ছেলের পাঁচ বছর বয়সের একটা টীকা করণের জন্য। স্বাস্থ্য কর্মীরা তো অবাক। ছেলের বয়স অনুযায়ী বৃদ্ধি কম। বেশ কিছু কথাও শুনিয়ে দেয় পিন্টুকে। সাথে পরামর্শ দেয় আগামী পরশু গ্রামের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ডাক্তার বাবু আসবেন সেখানে ছেলেকে নিয়ে যেতে।


আজ সেই দিন। সকাল আটটা। পিন্টু ছেলেকে নিয়ে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে যায়। গিয়ে শুনে ডাক্তার বাবু নাকি গতকাল এসেছিলেন।ছেলে প্রদীপ তাকিয়ে থাকে রান্না ঘরে খিচুড়ি, ডিম আর কলার দিকে। স্কুল ছুটি। ছেলেরা দাঁড়িয়ে আছে লাইনে।একে একে সবাই খাবার নিয়ে চলে যায়। পিন্টু তখনও দাঁড়িয়ে থাকে। দিদিমণি উদাসীন। প্রদীপ স্কুলে আসেনি তাই তার রাগ। প্রদীপ কিন্তু স্থির ভাবে খাবারের দিকে তাকিয়ে। যদিও বাড়িতে পিন্টু তার খাবারের কমতি রাখে না।দুধ, ডিম,মাছ, মাংস,বেবি ফুড আবার বাজারে গেলেই নিয়ে আসে কলা, পেঁপে, আপেল,আঙুর ইত্যাদি। প্রদীপের প্রধান সমস্যা হলো সে কিছুতেই খাবে না। অল্প কিছু মুখে দিয়েই খেলতে ছুটে। তার খেলায় খুব নেশা। শরীরের পুষ্টি থাকে অধরা। চিকিৎসা যে হয় না তা নয়। আসলে বাবার দারিদ্র্য পীড়িত রুগ্ন শরীরের রক্ত তো তাই বোধহয় প্রদীপের এই দশা।তা যাই হোক, বাবার হাত ধরে প্রদীপ সেই খিচুড়ি, ডিম আর কলার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে,পিন্টু ভাবলো যদি দিদিমণিকে বলে একটা কিছু ম্যানেজ করা যায়। তাই সাহস করে দিদিমণিকে বলে, দিদি, ছেলের হাতে একটা কিছু দিন না।

দিদিমণি বললেন,সময় মতো প্রেজেন্ট না থাকলে কিছু দেওয়া যাবে না। তাছাড়া,ও তো আজ স্কুলে আসেনি। আমি কিছু দিতে পারব না।

এই কথা বলে, দিদিমণি আর রাঁধুনি বাড়তি খাবার গুলো ভাগাভাগি করে নেয়। প্রদীপ তখনও সেই দিকে তাকিয়ে আছে । মুহূর্তেই পিন্টুর বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। অতীত শৈশব স্মৃতি তাকে কাঁদিয়ে দিল।

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

abhab

অ-ভাব

বাবলু আহির

অভাবের অত্যাচারে নিঃশেষ হতে হতে
হাতের পাঁচ এই হৃদয়টাও বন্ধকীর ঋণে।
বৃন্ত থেকে খসে যেতে যেতে
সময়কে দোষারোপ করেছি অবেলায়।
ঋণের তেতো শস্য খেতে খেতে
সস্যকে করে তুলেছি স্বাদহীন।
জ্যোৎস্নার রেণু গায়ে মাখতে মাখতে
লোভী চামড়ায় চুলকানি আর চুলকানি!
তোমাকে নিংড়াতে নিংড়াতে
উন্নতির কথায় ঢোঁক গিলেছি বারবার।
বিবেকের বৃন্তে স্বভাবের প্রভাব
অভিভাবকের অভাবে ভাবনাগুলো অনাথ হয়ে যায়।


28/08/2018
মেদিনীপুর।
Copyright@B.Ahir


REVENGE

                          প্রতিশোধ

                       বাবলু আহির


এবার কী হবে রে? -জামগাছের ডালে বসে গৌতম প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল আমাকে।
হবেটা আর কী, প্রাণে তো আর মারবে না। সামান্য একটা টায়ারের জন্য যদি প্রাণ যায় যাবে।
ভয়ে মুষড়ে গিয়ে গৌতম কাছে সরে এসে বলল, জামগুলো বড্ড কষা! খিদে পাচ্ছে রে,চল বাড়ি যাই।
সব্বনাশ! বাড়ি? তোর কি মাথা খারাপ হলো? এখন বাড়ি গেলে দুজনের আস্ত থাকবে না!তার চেয়ে যেমন বসে আছিস থাক, খিদে পেলে জাম খা।
একটু নুন হলে ভালো হতো!মুখ বাঁকিয়ে গৌতম বলে উঠলো।
মুলেই খাঁদির বে হয়নি তায় আবার ঢাকঢোল!চোখ বন্ধ করে গিলে দে। সন্ধ্যা নামুক, গুটিগুটি বাড়ি যাবো, যেন কেউ টের না পায়।
গৌতম। পাড়ার ছেলে বুড়ো সকলে গৌতা বলে ডাকে। বেচারি এমন ফ্যাসাদে পড়েনি কখনো।
গাছ থেকে নামতে নামতে আমি বললাম, তবে নেমে পড়, আমরা নতুন পুকুরে।
পাড়ের ঝোপে ছোট ছোট বেশকিছু বেলগাছ ছিল। গৌতম বেলের পাতা ছিঁড়ে চিবোতে লাগলো। শ্রীঘ্রই নীল জিভ সবুজে পরিণত হলো।
বেলের পাতা চিবোতে চিবোতে গৌতম বলল, আচ্ছা তোর খিদে পায়নি?
তোর কি পেট নাই? তুই খিদে চাপিস কী করে জানিনা। তবে একরকম ভালো-মুচকি হাসে গৌতম।
হ্যা রে গৌতা, আমরা যদি ভালো মানুষের মতো সকলের চোখের সামনে দিয়ে বাড়ি যাই?
পেঁদিয়ে গতর ফেলে দিবে!
আরে, জানবে কী করে যে আমরাই করেছি?
হাসালি রে, আমরা এতক্ষণ ঘরে নাই,সকলে ভেবেই নিয়েছে যে কাজটা আমাদের।
হারামি ড্রাইভারটা কি ভালো!একটু যদি চাপতেই দিত তবে কি শালার ট্রাক্টরটা ক্ষয়ে যেত! এখন বুঝুক ঠ্যালা,শালা টের পেয়েছে ভালোরকম!
গৌতম গলা উঁচু করল তারপর বলল,তুই বা হঠাৎ প্রতিশোধের কথা ভাবতে গেলি ক্যানে? এখন বাড়ি যেয়ে হয়তো শুনব বাবা মায়ের ঘাড় ধরে টায়ারের দাম নিচ্ছে।আর তুই বল, এতো টাকা চাট্টিখানি কথা! তোর কথাটা আলাদা। তোর মামা পার্টি করে।বড় বড় লোকের সঙ্গে উঠাবসা। তোকে তো এমনিতেই ছেড়ে দিবে!
বেশ বুঝতে পারছি গৌতমের ভয়টা অন্যরকম, আমার থেকে আলাদা। আমি শুধু ভাবছি,মামার মাথাটা সবার সামনে নিচু হয়ে যাবে। ভাগ্নের দোষ মামার উপর পড়বে।
গৌতম হঠাৎ বলে উঠল, আমরা এখন বলির পাঁঠা! বেলপাতা খেয়ে নে, তারপর হাড়িকাঠ !
বেরালের ভাগ্যে সিকা ছিঁড়লেও তো ছিঁড়তে পারে?
ছিঁড়বে না রে, ছিঁড়বে না! কেঁদে কেঁদে মরে গেলেও ছিঁড়বে না!--গৌতম কেঁদে ফেললো।
এর জন্য দায়ী আমি।হ্যা, এই অপরাধের জন্য আমিই দায়ী।
আজ সকাল থেকেই বামুন পাড়ার মৃদুলদের পাকা বাড়ির জন্য বালি বইছিল একটা ট্রাক্টর। রাস্তা তেমন একটা ভালো নয় তাই ট্রাক্টরটি আস্তে আস্তে চলছিল। আমি আর গৌতম ট্রাক্টরের পিছু নিলাম।ঝুলে ডালাটায় উঠতে চেষ্টা করছিলাম। ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে কড়া করে বকে দিয়ে চলে গেল।আমারো মাথা গেল বিগড়ে।
গোপীদের বাড়ির কাঠামো চলছিল। পেরেকের অভাব ছিল না। একখণ্ড পাটা আর পেরেক দুটো নিয়ে এলাম।পেরেক গাঁথা পাটাকে রাস্তায় রেখে ধূলো ঢাকা দিয়ে দিলাম। পেরেকের আগাগুলো ছিল উপর দিকে।
রাস্তার পাশে প্রাইমারী স্কুল।তার ছাদে উঠে অপেক্ষায় রইলাম কখন ট্রাক্টর আসবে। তাই মাঝে মাঝে মাথা তুলে দেখে নিচ্ছিলাম।
গৌতা, আসছে রে, শুয়ে পড়!
যেই না ধূলো বালি ঢাকা পেরেকের উপর দিয়ে চাকা গেছে পেরেকশুদ্ধ পাটা সেঁটে গেল চাকায়।ঘড় ঘড় ঘড় শব্দ! বুঝতে বাকি রইলো না আমাদের। সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের পিছন দিকে ধানের জমিতে লাফ!ধান জমির মধ্যে দিয়ে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে নতুন পুকুর সেখান থেকে ভ্রমরার পুকুরের জাম গাছের ডালে।আর ওদিকে হইহট্টগোল বেঁধে গেল।
তখন থেকে দুজনে বিকাল পর্যন্ত লুকিয়ে বেড়াচ্ছি। সূর্যের আলো নিভে আসতেই দুজনে বেরিয়ে পড়লাম ঝোপ থেকে। ততক্ষণে সব শান্ত হয়েছে ঠিকই কিন্তু আমাদের খোঁজে চলছে তল্লাশি। আমি চুপি চুপি দিদিমার কাছে বসতেই বড়মামা এসে ধমক দিতে লাগল।
তোর জন্য মাথাটা আমার নিচু হয়ে গেল! তুই কি আমায় শান্তি দিবি না? কেন করলি একাজ?
ড্রাইভার বকে ছিল তাই…
তাই?কত টাকা ক্ষতি হয়েছে জানিস?
তারপর রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

ঘুম থেকে যখন উঠলাম তখন সকাল আটটা। হয়তো আরো কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে থাকা যেত কিন্তু বাইরে একটা গরুর একটানা প্রচণ্ড হাম্বা রবে অতিষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত বিছানা আমাকে ছাড়তেই হলো।চোখ ঘষতে ঘষতে বাইরে এলাম।একি!এ কী দেখছি আমি! আমাদের উঠোনের এক কোণে বাঁধা আছে গৌতমের সেই আদুরে গাইটি।একটু দূরে বাঁধা আছে মাত্র এক মাস বয়সের বাছুরটি। এই গাইটি ছিল গৌতমের আপনজনের মতো। বাছুর হওয়ার পর তো গৌতম খেলাধূলাও অনেক কমিয়ে দিয়েছিল।বাছুরটিকে নিয়ে তার অনেকটা সময় কেটে যেত। কিন্তু গৌতমের সেই প্রিয় জিনিস আমাদের এখানে কেন?মামা কোথাও বাইরে বেরিয়েছিলেন, বাড়িতে ঢুকতেই মামাকে জিজ্ঞেস করলাম,মামা,গৌতমদের গরুটা আমাদের এখানে কেন?
গতকাল রাতে ওরা আমাদেরকে গরুটা বিক্রি করে দিয়েছে।
কেন?
গতকাল তোদের সেই কুকর্মের জন্য বিচার বসেছিল।তাতে গৌতমের বাবাকে জরিমানা দিতে হয়েছে।আর জরিমানার টাকা জোগাড় করার জন্যই ওরা গরুটা আমাদেরকে বিক্রি করে দিয়েছে।
গতকাল রাতে এতোকিছু ঘটে গেল অথচ আমি কিছুই জানতে পারলাম না।
কী করে জানবি তখন তো অনেক রাত। আর হ্যা, তুই একবার গৌতমকে দেখে আয়।ওর শরীরটা ভালো নেই, গতকাল খুব মারধর খেয়েছে কিনা।
আমি একবার গরুটার দিকে তাকালাম একবার মামার দিকে। তারপর চারপাশ কেমন ঝাপসা হয়ে গেল।



মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২

poem in heart

Because of Her

 Bablu Ahir

 Green pastures of Shilawati
 That day in the warm glow of the afternoon
 The restless eyes want to get in Priya's way
 Passionate heart, thirsty lips.

 In the evening tones of loving Shilavati
 Thoughts are swept away by the indulgence of a lover;
 It's the moyna in my inner shelter 
 The setting sun gives a golden signature.

 O Sun, you go
 It's time for the moon to come,
 I'll quench thirst with sunshine--
 Sweet astrology!


 21st Magh, 1425

সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২

লুকোচুরি

লুকোচুরি

বাবলু আহির

পৌষের শেষ সপ্তাহ তখন গতি পেয়েছে খুব
সেই হুহু করে ছুটতে থাকা দিনগুলোর
একটা মিষ্টি সকাল, আমাকে চিনতে পেরে
টেনে নিয়ে গেল
বাড়ির সামনে
আমার নিজের হাতে লাগানো
হলদে পাপড়ির আদুরে গাঁদাগুলোর মাঝে।

সোনা রোদ গায়ে মাখতে মাখতে
গল্পগুলো বেশ জমে উঠেছিল
উত্তুরে মৃদু হাওয়ার তালে।
এই তো সেদিন, ছোট্ট ছোট্ট চারা
জল-কাদায় খেলতে খেলতে--
শৈশবের সীমা পেরিয়ে গেল,
পৌঁছে গেল যৌবনের মেলায়!
এখন ওরা দিনভর--
রুক্ষ শীতের শীতল শিরায় উষ্ণতা ছোটায়।

একটু খানি আগেও
মনটা ভারি উদাস ছিল।
মেয়ে হারানো মায়ের প্রশ্নে
আঁধার আমাকে ঘিরে 
অট্টহাস্য জুড়েছিল!
আজ থেকে নয় বছর আগে-
মেয়েটা, তার মাকে কাঁদিয়ে, চলে গেছে--
 না ফেরার দেশে!
আমি, এখনো সেই ফ্রক পরা, ফুটফুটে পরীটাকে দেখি--
যখন তখন খিলখিল করে হাসে,
গান করে আপন মনে,
মায়ের সাথে চুল আঁচড়ায়, বিকেলের রোদে।
কখনো বা মায়ের কাছে বকুনি খেয়ে
কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসে
আমার কাছে,
চোখ মুছিয়ে দিয়ে আদর করলেই
বলে ওঠে,দাদামণি, মাকে আজ আচ্ছা মতো বকে দিও।
আমি বলি, ঠিক আছে বাবা, ঠিক আছে।

আজ সকালে,ওর মা এসেছিল,
হাতে একটা প্লাস্টিকের কার্ড
আমার হাতে দিয়ে জানতে চাইল--
আচ্ছা বাবু,এটা কি এখনো চালু আছে?
আমার তো কিডনিতে পাথর হয়েছে
তাই, হাসপাতালের ডাক্তার বাবু বললেন--
স্বাস্থ্যবীমা কার্ডটা নিয়ে যেতে।

কার্ডে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম
এটা তো সেই ফ্রক পরা, ফুটফুটে মেয়েটার কার্ড!
একবার মায়ের মুখের দিকে
একবার কার্ডের দিকে তাকিয়ে
কী জবাব দেব কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না।
বারবার কেবল মনে হতে লাগলো
এই অসুস্থ শরীরে তাকে, মেয়ের কথা বলে
নাই বা দুঃখ দিলাম।

অনেকক্ষণ ইতস্তত করে
বললাম, কাকিমা, এই কার্ডে তো কিছু হবে না
ডেট ফেল হয়ে গেছে অনেক আগেই।

না, মায়ের মুখে কোনো হতাশার ছায়া নেই,
কার্ডটা নিয়ে বাড়ি মুখো ওই মায়ের দিকে
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম
চারদিকে কেমন যেন গাঢ় কুয়াশা
ছলছল করে উঠলো চোখ
মোচড় দিয়ে উঠলো বুকটা!

এখন এই গাঁদাফুলের মাঝে
সেই ফ্রক পরা, ফুটফুটে পরীটা
আমার সাথে, রোদের সাথে লুকোচুরি খেলছে,
আমি বারবার হেরে যাচ্ছি,
এখন যে আমার খুব হারতে ইচ্ছে করছে।


22শে ফাল্গুন,১৪২৫
মেদিনীপুর








রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২

এভাবেই রোজ

এভাবেই রোজ

বাবলু আহির

এতো ভেবো না তো
শুধু আজেবাজে ভাবনা জড়ো করো
তুমি না ভাবলেও পৃথিবী ঘুরবে
কান্না হাসি নতুন কিছু নয়।

মন্ত্রের মতো রোজ
এভাবেই নামাবলী জড়িয়ে বেঁচে আছি
একে একে সরে গেছে
যা কিছু আপন আপাত সবুজ।

সরে গেছে টেবিল চেয়ার
সরে গেছে প্রিয়মুখ প্রিয় ছবি
শুকনো ফুল নিয়ে সুতোটা ঝুলছে
ভ্রম হয় বুঝি বা দেওয়ালটা সরছে।

শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২

পালক ছেঁড়ার ক্ষত

পালক ছেঁড়ার ক্ষত

বাবলু আহির

তোমার এখন অনেক স্বাধীনতা
সিঁদুরের আবহমান মর্ম তুমি বুঝবে না
সিঁথির এই দিঘল আশ্চর্য
তোমাকে ঈর্ষণীয় করেছে শুকনো মরিচের মতো।

আমি এখন স্নান করি
সমুদ্রের নোনা জলে যখন তখন
এখন সে আমার অনেক চেনা
ঢেউয়ের সঙ্গে খেলতে খেলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

ইচ্ছে করলেই মেলতে পারো ডানা
আপন মনে ভাসতে নেইকো মানা
তোমার এখন অনেক স্বাধীনতা
তুমি এখন

তোমার এখন অনেক স্বাধীনতা
সিঁথির দায়ে আমি পতিব্রতা
রাঙা দিঘল এই যে নিশান খানা
বন্ধকীতে আমি যে আধখানা।

শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২

উনুনের পাশে

উনুনের পাশে

বাবলু আহির

সবে তো চৈত্র শুরু হয়েছে
ঝলসে ওঠা ঘাসের মতো পেরিয়ে এসেছি বত্রিশটা চৈত্র
উত্তপ্ত এই বুকে এক পশলা বৃষ্টির খুব দরকার ছিল
জরুরী ভিত্তিতে কিছু বৃষ্টির ফোঁটা
পোড়া মনের শেষ ইচ্ছা।

ইচ্ছেরা নিষ্ফলা মেঘের মতো
উড়ে যায় দূরে-
হয়তো বা তারও দূরে রূপকথার মতো
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির প্রয়োজন পড়ে।

হেরে যাওয়া গেরস্থালির অন্তরে
বাষ্পীভূত হয় কলরোল
আমি এই চৈত্রের দূপুরে কেমন শুকিয়ে উঠছি
উনুনের পাশে ঘেমে গেছে বর্তমান।

samayer dalil

সময়ের দলিল

বাবলু আহির

আমরা একে অপরকে ক'টা মুহূর্ত দিয়েছিলাম
তার হিসেব চলতেই থাকবে আমৃত্যু
চক্রবৃদ্ধি সুদের মতো আমাদের অতীত
সুদের মায়া বড্ড টানে একটা নেশার মতো।

জেগে থাকা রাত
আর প্রেমিকা হয়না আগের মতো
দিনগুলো অট্টহাসি করে
আমি নির্বিকার, নির্ভীক প্রেমিক নই।

যন্ত্রনা দিয়ে সময় মেপে নিই
পৃথিবী জাগলো নাকি ঘুমিয়ে আছে
যন্ত্রনার কম্পন গ্রাফ
এঁকে যায় সময়ের দলিল।

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

kheyal khushir Bristi

খেয়াল খুশির বৃষ্টি


বাবলু আহির


নিয়ম করে ওষুধ খেতে পারিনা বলে

সহ্য করি যন্ত্রণা এর ওর

তবুও কেন যে রোজ একই যন্ত্রণা

আমাকে নিয়ে এভাবে খেলা করে?


জীবন নিয়ে তো অনেক খেললাম

ভাগাভাগি করেছি জয়ের আনন্দ

হেরে যাওয়ার গ্লানি গুলো পকেটে পুরে

জামা সহ ভাসিয়ে দিয়েছি শিলাবতীর ধারায়।


এখন আর পকেট নেই

প্রয়োজন নেই, নেই শিলাবতীর কাছে যাওয়া

নিয়ম করে একলা থাকি

জানলা খুলে দেখি খেয়াল খুশির বৃষ্টি।

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২

ক্রমাঙ্কের অলংকার

ক্রমাঙ্কের অলংকার

বাবলু আহির

এক,দুই...বারো...বাইশ…
ক্রমের অলংকারে গর্বিত মৃত অস্থি
প্রাগৈতিহাসিক থেকে উত্তর ঐতিহাসিক
অনুসৃত চলাচল দিব্য আলোক
ভোর তো আপেক্ষিক-বিশ্রাম বাসর উৎযাপন।

এই ঊষর বুকেও ছিল ঢেউয়ের খেলা-সবুজ উচ্ছ্বাস
জ্যোৎস্না কন্যার জীবনানন্দ,
ফেনায়িত বুদবুদ মরে গেছে কতকাল আগেই
রুগ্ন মঞ্চে স্তন পানে রত শুষ্ক পাঞ্জর-থেমে আছে যবনিকা
সে এখন শুধুই মা-অনন্তের।

সাজঘরে কাহিনী হাতে
বালি আর পাথরের বাক্যালাপ
শশ্মানের ছাই মাখে জৈবিক অনুসন্ধান!

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

The Epic


The Epic

 Bablu Ahir

 This is the field
 Scattered by some grasshoppers
 The childhood of the ancestors is mixed here
 This field is very familiar to me.

 How many games have been played here?
 In the dust on the grass
 All that is accumulated in this field
 Our past accounts.

 A few dry leaves that flew away
 In the wind of the evening
 Dust also wakes up with manuscripts in hand
 The epic of sun, storm and rain is heard.

poem

মহাকাব্য


বাবলু আহির


এই যে মাঠ

ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু ঘাসেদের পাড়া

এখানেই মিশে আছে পূর্ব পুরুষের শৈশব

এই মাঠ আমারও খুব চেনা।


কত খেলা হয়ে গেছে এইখানে

ঘাসের উপর ধূলোর ভিতর

এই মাঠের বুকে জমে আছে সেই সব

আমাদের অতীত খাতা।


ওই যে উড়ে গেল কয়েকটা শুকনো পাতা

সন্ধ্যার খেয়ালি বাতাসের টানে

ধূলোরাও জেগে ওঠে পাণ্ডুলিপি হাতে

শোনায় রোদ,ঝড়, বৃষ্টির মহাকাব্য।



শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

Behind me

The seed that sleeps behind me
 Waiting for your feelings
 I don't know his age
 I don't know his past.

 Now he stopped behind me
 Hands behind
 Imagine a sleeping cold body
 Kanamachi kept going.

 Private comes forward
 I don't know how it comes
 I don't understand anything
 Sleeping or absorbed in penance.

poem

আমার আড়ালে


বাবলু আহির


আমার আড়ালে যে বীজ ঘুমিয়ে আছে

তোমার অনুভূতির অপেক্ষায়

তার বয়স আমি জানিনা

তার অতীত আমার জানা নেই।


এখন সে থেমে আছে আমার আড়ালে

পেছনে হাত বাড়িয়ে

কল্পনায় এঁকে নিই ঘুমন্ত শীতল দেহ

কানামাছি চলে চলতেই থাকে।


একান্তে সামনে আসে

কী করে আসে জানিনা

বুঝতে পারি না কিছুতেই

ঘুমিয়ে আছে নাকি তপস্যায় লীন হয়ে আছে।



Tonight

Tonight is a bird with broken wings
 To take the steam of thinking
 I forget the pain, alone like a glow-worm.

 The moon is asleep in subjugated sleep
 What will happen to the roof?
 Mercury coming down the escalator.

 Looking in the damp darkness
 The horizon surrounds me
 In the eternal chain of the inert.

কবিতা

ভ্রম


বাবলু আহির


একটা আচমকা আওয়াজ

আমি কিছু একটা হারিয়ে ফেললাম

একবার মনে হলো কাব্য লিখি

হাতে কলম ধরতেই মনে হলো এটা অসময়।


একটা আর্তনাদ

আমি থমকে গেলাম

মনে হলো ও আমার ভ্রম

স্নায়ু কেঁপে উঠতেই মনে হলো জায়গাটা ভালো নয়।


একটা উল্লাস

আমার গা গুলিয়ে উঠলো

মনে হলো আমার ঘরে ফেরা উচিত

অজ্ঞান হওয়ার আগেই, এখানে দাঁড়িয়ে থাকা বোকামি।