HORIZON
বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩
Exploring the Rich Tapestry of Bengali Literature: A Journey through Time and Culture
সোমবার, ২২ মে, ২০২৩
How I can grow a YouTube channel?
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
মুখোমুখি আমি আর চৈত্রের দুপুর
মুখোমুখি আমি আর চৈত্রের দুপুর
বাবলু আহির
মুখোমুখি আমি আর চৈত্রের দুপুর
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে অপলক
আমরা যেন কেউ পরস্পর পরস্পরকে
কোনো দিন এতো ভালো করে দেখিনি।
দুজনের চোখে বিস্ময়
এভাবে কয়েকটা মুহূর্ত গেল
এরপর যেন ম্যাজিকের মতো বদলে যেতে লাগলো
মুখ আর মুখের ভাষা।
আমরা এখন একে অপরের বর্ণমালা চিনে ফেলেছি
আমাদের মধ্যে আর কোনো রহস্য নেই
দুজনেই দুজনের উপন্যাসের অন্তিম অধ্যায়ে
আমরা দুজনেই বৃষ্টির অভাব বোধ করছি।
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
স্বপ্ন দেখি
স্বপ্ন দেখি
বাবলু আহির
জানো কাকলি,
তুমি চলে যাওয়ার পর
এই বাগান ভেঙে পড়লো শোকে
ঝরে পড়লো পাতা, কুঁড়ি একে একে সব।
ঝলসে উঠলো ঘাস ঊষর হলো মাটি
মরু এসে গ্রাস করলো সব
ছায়া চাই ছায়া যে খুব দরকার
আবারও স্বপ্ন দেখি, থামতে নেই।
ধ্বংসস্তূপে জেগে উঠল সবুজ
কুঁড়ি এল রং এল
পাল্লা দিয়ে ঝড় এল
আমি স্বপ্ন দেখতে বসলাম আবার।
বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
হাত চলে যায়
হাত চলে যায়
বাবলু আহির
রান্নাঘরে কিছু ভাজা চলছে
শব্দ পাচ্ছি কিন্তু আন্দাজ করতে পারছি না
কিছুক্ষণ আগেই নতুন পেঁয়াজ নেওয়ার খসখসে শব্দ
কলতলায় কেউ একজন হাত ধুতে এলো।
কলতলা, রান্নাঘর,গোয়ালঘর
কত সহজেই আমি ঘুরে আসতে পারি
যেতে পারি গামছাটা কাঁধে ফেলে
দিগন্তের কাছাকাছি যেখানে মানুষ থাকে।
সেইসব সাদাকালো ছায়াছবির কাহিনীকে
কত যে রঙিন করে তুলি স্বপ্নের মতো!
এভাবেই চলে যায় দিন, চলে যাচ্ছে রাত
পায়ের আগে হাত চলে যাচ্ছে নয়তো প্রিয় লাঠি।
রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
শেষ উপহার
শেষ উপহার
বাবলু আহির
তোমাকে তো দিয়েছি আমার প্রদেয় যথারীতি-
এত্তো টুকু ছিলো না কার্পণ্য!
ঘর্মাক্ত ক্লান্ত দেহে ঘরে ফিরলে
উজাড় করে দিয়েছি সেবার অর্ঘ্য,দিয়েছি বিশুদ্ধ প্রেম।
বিধ্বংসী ঘুর্ণিঝড়ে বুক পেতেছি কতবার!
কতদিন তপ্ত নিঝুম দুপুরে পুড়েছি একাকী-
তবুও ভালোবেসে দিয়ে গেছি দিবানিদ্রার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।
মনে পড়ে, একদিন আমার পিঠে পিঠ দিয়ে
গোধূলির রং মাখতে মাখতে শুনতে চেয়েছিলে
জীবনের সুর প্রেমময় গানে গানে!
সেই জলসায়, সেই আনন্দের মেলায়
আমাকে দিলে তোমার উদার হাসি;
সেই উপহার আজো রাখা আছে হৃদয়ে অতি যতনে!
মনে পড়ে, তোমার মনের কষ্টগুলো কতবার
অশ্রু হয়ে ঝরে গেছে আমার শরীর বেয়ে-নিবিড় আলিঙ্গনে।
মনে পড়ে, তুমি ঘুমিয়ে পড়লেও অন্দরে টেনে নিতে
আমার সুঘ্রাণ...
তুমি বলতে ওটা বাঁচার রসদ !
আমি বলতাম, না গো না !এটা আমার প্রতি তোমার বাড়াবাড়ি!
তুমি অজান্তে পাশ ফিরেই আমাকে না পেয়ে ঘুমের ঘোরে ছুটে আসতে উঠোনে-
দেখতে, আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে;
জ্যোৎস্না রাতে ,চুপিসাড়ে পেছনে এসে জড়িয়ে ধরতে আমায়!
মনে পড়ে,রান্না ঘরে উঁকি দিতে যখন তখন
প্রাতঃরাশের টেবিলে থেকে ভেসে আসতো টুং টাং শব্দ।
মনে পড়ে, তোমার নিজের হাতে আমার মুখে তুলে দিতে গ্রাস;
গ্লাসে জল নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে অপলক!
আমাকে এত্তো ভালোবাসতে?
কেন তবে আজ এভাবে নীরবে দাঁড়িয়ে?
আমার খণ্ড খণ্ড অঙ্গের স্তুপে কী দেখছো অমন তাকিয়ে?
দেখো, প্রতি খণ্ডে তোমার ভালোবাসা কেমন লেপ্টে আছে!
তোমার থেকে পাওয়া আমার শেষ উপহার..
করাতের দাগগুলো তেমনি আছে আজো!
৯ই আশ্বিন,১৪২৫
মেদিনীপুর
ষ