শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ছেলেটি দাঁড়িয়েই আছে

ছেলেটি দাঁড়িয়েই আছে


বাবলু আহির


ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে স্থির যেমনটি দাঁড়িয়ে আছে

গণেশ আর কার্তিক তাঁদের মায়ের পাশে।

ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায়

যেখানে ভিড় একটু কম

পুজো মণ্ডপের প্রবেশ পথের এক্কেবারে ধারঘেঁষে।

দর্শনার্থীদের ঢল আসছে যাচ্ছে

দেখছে মণ্ডপের কারুকার্য, আলোর আশ্চর্য খেলা

কেউবা তুলে নিচ্ছে নিজের নিজের ছবি

মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটের ঝলকে।

ছেলেটি কিন্তু নড়ছে না ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে

ও তো মণ্ডপের মূর্তি নয় তাই অসতর্ক দর্শনার্থীরা

নাড়িয়ে দিয়ে যায় তাদের চলাচলের পথে।

তবুও সে স্থির থাকতে চায়, চেয়ে থাকে জিলিপির

দোকানের দিকে।

বুকফুলিয়ে শুষে নেয় মিষ্টির সুঘ্রাণ,

পেটটা বেশ ভরা ভরা লাগে, ইচ্ছে করে নিঃশ্বাসটা

ধরে রাখে যতক্ষণ না ছটফটিয়ে উঠে তার প্রাণ

নতুন প্রাণবায়ুর জন্য।

ছেলেটি দাঁড়িয়েই থাকে স্থির দৃষ্টিতে

মিষ্টি আর তার মাঝে খরিদ্দারের ছায়া পড়লে

মাথাটা হেলিয়ে দেয় চকচকে মিষ্টিগুলোকে

চকচকে চোখের পর্দায় আনার জন্য।

বামে ডাইনে সামনে কখনো বা উঁচু করতে হয় গলাটি।

ছেলেটি দাঁড়িয়েই থাকে।

এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাল্কা হয় ভিড়

খালি হয়ে আসে মিষ্টির পাত্রগুলো 

চোখের পাতায় নামে অতৃপ্তির অবসাদ

শরীর জুড়ে নামতে থাকে অবসন্নতা

শুধু পেটটা ওদের তালে তাল মেলাতে পারে না।

ছেলেটি এবার পেছন ফিরে

দূর থেকেই দুগ্গা মাকে দেখে নেয়

আর অমনি দুটো চোখ বেয়ে নেমে আসে নোনতা জল

মাটিতে পড়ার আগেই জিভ দিয়ে টেনে নেয় দ্রুত।

না,ও খিদের জন্য কাঁদছে না

ও কাঁদছে দুগ্গা মায়ের মুখে ওর মায়ের মলিন মুখটা

হঠাৎই ভেসে উঠেছিল বলে।



২৯ই আশ্বিন ১৪২৫

মেদিনীপুর।


কোন মন্তব্য নেই: