বিষন্ন সেদিনের কথা
বাবলু আহির
হ্যালো! কে? সোনালি?
জানিস সোনালি--
আজ বারবার মনে পড়ছে তোর কথা,
তোর সাথে মিশে থাকা সেদিনের স্মৃতি
ম্লান করে অনায়াসে বর্তমানের ঔজ্জ্বল্য!
আচ্ছা সোনালি, তোর কি মনে পড়ে--
ফেলে আসা আমাদের গ্রামের কথা?
যেখানে ফেলে এসেছি
পাখিদের সংসার, আম-কাঁঠালের বন,
বৌ ডু-ডু,কিত্-কিত্ আর
বালি দিয়ে গড়া তোর-আমার শৈশবের খেলা ঘর।
আজ, এই জৈষ্ঠ্যের পড়ন্ত বিকেলে
বারবার মনে পড়ছে, বিষন্ন সেদিনের কথা!
তোর কি মনে আছে--
আমাদের বাড়ির উঠোনে
পেয়ারার গাছ আর তার ডালে-
দুলতে থাকা শালিখের সংসার।
শালিখ দুটো যেদিন প্রথম এলো,
চোখে ছিল স্বপ্নের মায়া;
সৃষ্টির মত্ততায়
একজনের হলুদ ঠোঁট
আদরে ভরলো অন্যজনার লাজুক ঠোঁট,
কাঁপলো হিয়া নিবিড় উষ্ণতায়!
আর আমরা,
ধুলো বালির খেলা ফেলে
আনমনে দেখলাম খড়কুটোর বুনন।
ওদের গা ঝাড়া,ফুড়ুৎ করে উড়ে যাওয়া
দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল
প্রায় দুটো মাস।
পশ্চিম আকাশ জুড়ে যখন গোধূলি খেলতো
তার রঙের খেলা--
খুসিতে আত্মহারা হতাম দুজনে
বাচ্চাগুলোর কিচিরমিচির ডাকে!
তারপর, ঠোঁটে করে ফড়িং আনলেই
সংসার জুড়ে ছুটতো খুশির ফোয়ারা।
কিছু দিন কাটলো এভাবেই,
তারপর একদিন,
ওরা বাবা মায়ের সাথে
বেরিয়ে এলো প্রকাশ্যে;
সেভাবে উড়তে শেখেনি,
তাই ওড়া শিখতে শিখতে
বাড়ির পাঁচিল টপকে গেল।
নতুন উড়তে শেখার আনন্দে
বাঁধনহারা, অনেক অনেক উঁচুতে
উড়তে চায়,ক্লান্ত হলে নেমে আসে
বাবা মায়ের কাছে।
এমন সময়, পাড়ার ছেলেগুলো,
কোথায় ছিল, সদলবলে এলো ছুটে,
এলোপাথাড়ি চলল--ঢিল,লাঠি, গুলতি!
বাবা শালিখ-মা শালিখের
বিপদের চ্যাঁ-চ্যাঁ চিৎকার,
নিরুপায় বাতাস তার কাজে
ফাঁকি দেয়নি,করুণ কান্না পৌঁছেছিল
সবার কানে কানে!
কিন্তু হায়!কেউ আসেনি সেদিন
ওদের পাশে।
প্রকাশ্যে খুন হলো, অসহায় তিনটি
শালিখ ছানা!
সদ্য গজানো পালক উপড়ে,
আগুনে ঝলসালো কচি দেহ!
আমাদের মানা মানলো না কেউ,
শুনলো না, আমাদের কান্না!
আজো, ওদের সেই বিপদের
চিৎকার, যখন তখন আমার
কানে বাজে--কংক্রিটের দেয়াল
আলগা হয়, মনের আকাশে
ছায় বিষন্নতার মেঘ!
সোনালি, তোরও কি মনে পড়ে,
বিষন্ন সেদিনের কথা?
22/06/2018
মেদিনীপুর।
Copyright@B.Ahir