বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

মুখোমুখি আমি আর চৈত্রের দুপুর

মুখোমুখি আমি আর চৈত্রের দুপুর

বাবলু আহির


মুখোমুখি আমি আর চৈত্রের দুপুর

দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে অপলক

আমরা যেন কেউ পরস্পর পরস্পরকে

কোনো দিন এতো ভালো করে দেখিনি।


দুজনের চোখে বিস্ময়

এভাবে কয়েকটা মুহূর্ত গেল

এরপর যেন ম্যাজিকের মতো বদলে যেতে লাগলো

মুখ আর মুখের ভাষা।


আমরা এখন একে অপরের বর্ণমালা চিনে ফেলেছি

আমাদের মধ্যে আর কোনো রহস্য নেই

দুজনেই দুজনের উপন্যাসের অন্তিম অধ্যায়ে

আমরা দুজনেই বৃষ্টির অভাব বোধ করছি।

বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

স্বপ্ন দেখি

স্বপ্ন দেখি


বাবলু আহির


জানো কাকলি,

তুমি চলে যাওয়ার পর

এই বাগান ভেঙে পড়লো শোকে

ঝরে পড়লো পাতা, কুঁড়ি একে একে সব।


ঝলসে উঠলো ঘাস ঊষর হলো মাটি

মরু এসে গ্রাস করলো সব

ছায়া চাই ছায়া যে খুব দরকার

আবারও স্বপ্ন দেখি, থামতে নেই।


ধ্বংসস্তূপে জেগে উঠল সবুজ

কুঁড়ি এল রং এল

পাল্লা দিয়ে ঝড় এল

আমি স্বপ্ন দেখতে বসলাম আবার।

বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হাত চলে যায়

হাত চলে যায়


বাবলু আহির


রান্নাঘরে কিছু ভাজা চলছে

শব্দ পাচ্ছি কিন্তু আন্দাজ করতে পারছি না

কিছুক্ষণ আগেই নতুন পেঁয়াজ নেওয়ার খসখসে শব্দ

কলতলায় কেউ একজন হাত ধুতে এলো।


কলতলা, রান্নাঘর,গোয়ালঘর

কত সহজেই আমি ঘুরে আসতে পারি

যেতে পারি গামছাটা কাঁধে ফেলে

দিগন্তের কাছাকাছি যেখানে মানুষ থাকে।


সেইসব সাদাকালো ছায়াছবির কাহিনীকে

কত যে রঙিন করে তুলি স্বপ্নের মতো!

এভাবেই চলে যায় দিন, চলে যাচ্ছে রাত

পায়ের আগে হাত চলে যাচ্ছে নয়তো প্রিয় লাঠি।


রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শেষ উপহার

শেষ উপহার


বাবলু আহির


তোমাকে তো দিয়েছি আমার প্রদেয় যথারীতি-

এত্তো টুকু ছিলো না কার্পণ্য!

ঘর্মাক্ত ক্লান্ত দেহে ঘরে ফিরলে

উজাড় করে দিয়েছি সেবার অর্ঘ্য,দিয়েছি বিশুদ্ধ প্রেম।

বিধ্বংসী ঘুর্ণিঝড়ে বুক পেতেছি কতবার!

কতদিন তপ্ত নিঝুম দুপুরে পুড়েছি একাকী-

তবুও ভালোবেসে দিয়ে গেছি দিবানিদ্রার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।

মনে পড়ে, একদিন আমার পিঠে পিঠ দিয়ে

গোধূলির রং মাখতে মাখতে শুনতে চেয়েছিলে

জীবনের সুর প্রেমময় গানে গানে!

সেই জলসায়, সেই আনন্দের মেলায়

আমাকে দিলে তোমার উদার হাসি;

সেই উপহার আজো রাখা আছে হৃদয়ে অতি যতনে!

মনে পড়ে, তোমার মনের কষ্টগুলো কতবার

অশ্রু হয়ে ঝরে গেছে আমার শরীর বেয়ে-নিবিড় আলিঙ্গনে।

মনে পড়ে, তুমি ঘুমিয়ে পড়লেও অন্দরে টেনে নিতে

আমার সুঘ্রাণ...

তুমি বলতে ওটা বাঁচার রসদ !

আমি বলতাম, না গো না !এটা আমার প্রতি তোমার বাড়াবাড়ি!

তুমি অজান্তে পাশ ফিরেই আমাকে না পেয়ে ঘুমের ঘোরে ছুটে আসতে উঠোনে-

দেখতে, আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে;

জ্যোৎস্না রাতে ,চুপিসাড়ে পেছনে এসে জড়িয়ে ধরতে আমায়!

মনে পড়ে,রান্না ঘরে উঁকি দিতে যখন তখন

প্রাতঃরাশের টেবিলে থেকে ভেসে আসতো টুং টাং শব্দ।

মনে পড়ে, তোমার নিজের হাতে আমার মুখে তুলে দিতে গ্রাস;

গ্লাসে জল নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে অপলক!


আমাকে এত্তো ভালোবাসতে?

কেন তবে আজ এভাবে নীরবে দাঁড়িয়ে?

আমার খণ্ড খণ্ড অঙ্গের স্তুপে কী দেখছো অমন তাকিয়ে?

দেখো, প্রতি খণ্ডে তোমার ভালোবাসা কেমন লেপ্টে আছে!

তোমার থেকে পাওয়া আমার শেষ উপহার..

করাতের দাগগুলো তেমনি আছে আজো!



৯ই আশ্বিন,১৪২৫

মেদিনীপুর



শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

শরৎ নিশান

শরৎ নিশান

বাবলু আহির


আনমনে কে গাইছে ভোরাই স্নিগ্ধ শরৎ প্রাতে!
পাপড়ি মেলে পদ্ম যে তার, ভোমরা মাতে তাতে।
শিউলি ঝরে রাশি রাশি শিশির ঝরা ঘাসে
শরৎ ঊষার সাথে সাথে শাপলা শালুক হাসে।
ওই যে দূরে খালের পাড়ে হাসছে কিছু কাশ
আসছে উমা ধরা মাঝে দিচ্ছে তারই আভাস।
সবুজ মাঠে শুভ্র নিশান কিষান মাখে খুশি
নীল সাগরে পাল তুলেছে ওই যে ভিনদেশী!
বঙ্গরানীর অঙ্গে অঙ্গে শরৎ রানীর বেশ
বঙ্গবাসীর মনে প্রাণে আগমনীর আবেশ।


02/09/2018
মেদিনীপুর।
Copyright@B.Ahir

শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ছেলেটি দাঁড়িয়েই আছে

ছেলেটি দাঁড়িয়েই আছে


বাবলু আহির


ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে স্থির যেমনটি দাঁড়িয়ে আছে

গণেশ আর কার্তিক তাঁদের মায়ের পাশে।

ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায়

যেখানে ভিড় একটু কম

পুজো মণ্ডপের প্রবেশ পথের এক্কেবারে ধারঘেঁষে।

দর্শনার্থীদের ঢল আসছে যাচ্ছে

দেখছে মণ্ডপের কারুকার্য, আলোর আশ্চর্য খেলা

কেউবা তুলে নিচ্ছে নিজের নিজের ছবি

মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটের ঝলকে।

ছেলেটি কিন্তু নড়ছে না ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে

ও তো মণ্ডপের মূর্তি নয় তাই অসতর্ক দর্শনার্থীরা

নাড়িয়ে দিয়ে যায় তাদের চলাচলের পথে।

তবুও সে স্থির থাকতে চায়, চেয়ে থাকে জিলিপির

দোকানের দিকে।

বুকফুলিয়ে শুষে নেয় মিষ্টির সুঘ্রাণ,

পেটটা বেশ ভরা ভরা লাগে, ইচ্ছে করে নিঃশ্বাসটা

ধরে রাখে যতক্ষণ না ছটফটিয়ে উঠে তার প্রাণ

নতুন প্রাণবায়ুর জন্য।

ছেলেটি দাঁড়িয়েই থাকে স্থির দৃষ্টিতে

মিষ্টি আর তার মাঝে খরিদ্দারের ছায়া পড়লে

মাথাটা হেলিয়ে দেয় চকচকে মিষ্টিগুলোকে

চকচকে চোখের পর্দায় আনার জন্য।

বামে ডাইনে সামনে কখনো বা উঁচু করতে হয় গলাটি।

ছেলেটি দাঁড়িয়েই থাকে।

এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাল্কা হয় ভিড়

খালি হয়ে আসে মিষ্টির পাত্রগুলো 

চোখের পাতায় নামে অতৃপ্তির অবসাদ

শরীর জুড়ে নামতে থাকে অবসন্নতা

শুধু পেটটা ওদের তালে তাল মেলাতে পারে না।

ছেলেটি এবার পেছন ফিরে

দূর থেকেই দুগ্গা মাকে দেখে নেয়

আর অমনি দুটো চোখ বেয়ে নেমে আসে নোনতা জল

মাটিতে পড়ার আগেই জিভ দিয়ে টেনে নেয় দ্রুত।

না,ও খিদের জন্য কাঁদছে না

ও কাঁদছে দুগ্গা মায়ের মুখে ওর মায়ের মলিন মুখটা

হঠাৎই ভেসে উঠেছিল বলে।



২৯ই আশ্বিন ১৪২৫

মেদিনীপুর।


বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

meghla Akash

শাড়ির ভাঁজে


বাবলু আহির


আজ ষোলো বছর তোমাকে দেখিনি

তবু দিব্বি চলে যাচ্ছে-

চলে যাচ্ছে সময়, চলে যাচ্ছে বর্তমান

মনের ভেতর বয়ে বেড়াচ্ছি তোমার সেকেলে ছবি।


আমি অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠি

উজানের সাঁতার শিখিনি আজো

নিজেকে গুছিয়ে নেব বলে প্রতিজ্ঞার ঘটা

সকালে উঠে দেখি অগোছালো রাত।


তোমাকে দেওয়া সোনালী সেই হাতঘড়ি

আজো কি সচল?

আজো কি পরো?

আগের মতো যেন হাত লুকিয়ো না শাড়ির ভাঁজে।

মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

উনুনের পাশে

উনুনের পাশে


বাবলু আহির


সবে তো চৈত্র শুরু হয়েছে

ঝলসে ওঠা ঘাসের মতো পেরিয়ে এসেছি বত্রিশটা চৈত্র

উত্তপ্ত এই বুকে এক পশলা বৃষ্টির খুব দরকার ছিল

জরুরী ভিত্তিতে কিছু বৃষ্টির ফোঁটা

পোড়া মনের শেষ ইচ্ছা।


ইচ্ছেরা নিষ্ফলা মেঘের মতো

উড়ে যায় দূরে-

হয়তো বা তারও দূরে রূপকথার মতো

ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির প্রয়োজন পড়ে।


হেরে যাওয়া গেরস্থালির অন্তরে

বাষ্পীভূত হয় কলরোল

আমি এই চৈত্রের দূপুরে কেমন শুকিয়ে উঠছি

উনুনের পাশে ঘেমে গেছে বর্তমান।

বিষন্ন সেদিনের কথা

বিষন্ন সেদিনের কথা

বাবলু আহির


হ্যালো! কে? সোনালি?

জানিস সোনালি--

আজ বারবার মনে পড়ছে তোর কথা,

তোর সাথে মিশে থাকা সেদিনের স্মৃতি

ম্লান করে অনায়াসে বর্তমানের ঔজ্জ্বল্য!

আচ্ছা সোনালি, তোর কি মনে পড়ে--

ফেলে আসা আমাদের গ্রামের কথা?

যেখানে ফেলে এসেছি

পাখিদের সংসার, আম-কাঁঠালের বন,

বৌ ডু-ডু,কিত্-কিত্ আর

বালি দিয়ে গড়া তোর-আমার শৈশবের খেলা ঘর।

আজ, এই জৈষ্ঠ্যের পড়ন্ত বিকেলে

বারবার মনে পড়ছে, বিষন্ন সেদিনের কথা!

তোর কি মনে আছে--

আমাদের বাড়ির উঠোনে

পেয়ারার গাছ আর তার ডালে-

দুলতে থাকা শালিখের সংসার।

শালিখ দুটো যেদিন প্রথম এলো,

চোখে ছিল স্বপ্নের মায়া;

সৃষ্টির মত্ততায়

একজনের হলুদ ঠোঁট

আদরে ভরলো অন্যজনার লাজুক ঠোঁট,

কাঁপলো হিয়া নিবিড় উষ্ণতায়!


আর আমরা,

ধুলো বালির খেলা ফেলে

আনমনে দেখলাম খড়কুটোর বুনন।

ওদের গা ঝাড়া,ফুড়ুৎ করে উড়ে যাওয়া

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল

প্রায় দুটো মাস।

পশ্চিম আকাশ জুড়ে যখন গোধূলি খেলতো

তার রঙের খেলা--

খুসিতে আত্মহারা হতাম দুজনে

বাচ্চাগুলোর কিচিরমিচির ডাকে!

তারপর, ঠোঁটে করে ফড়িং আনলেই

সংসার জুড়ে ছুটতো খুশির ফোয়ারা।


কিছু দিন কাটলো এভাবেই,

তারপর একদিন,

ওরা বাবা মায়ের সাথে

বেরিয়ে এলো প্রকাশ্যে;

সেভাবে উড়তে শেখেনি,

তাই ওড়া শিখতে শিখতে

বাড়ির পাঁচিল টপকে গেল।

নতুন উড়তে শেখার আনন্দে

বাঁধনহারা, অনেক অনেক উঁচুতে

উড়তে চায়,ক্লান্ত হলে নেমে আসে

বাবা মায়ের কাছে।

এমন সময়, পাড়ার ছেলেগুলো,

কোথায় ছিল, সদলবলে এলো ছুটে,

এলোপাথাড়ি চলল--ঢিল,লাঠি, গুলতি!

বাবা শালিখ-মা শালিখের

বিপদের চ্যাঁ-চ্যাঁ চিৎকার,

নিরুপায় বাতাস তার কাজে 

ফাঁকি দেয়নি,করুণ কান্না পৌঁছেছিল

সবার কানে কানে!

কিন্তু হায়!কেউ আসেনি সেদিন

ওদের পাশে।

প্রকাশ্যে খুন হলো, অসহায় তিনটি

শালিখ ছানা!

সদ্য গজানো পালক উপড়ে,

আগুনে ঝলসালো কচি দেহ!

আমাদের মানা মানলো না কেউ,

শুনলো না, আমাদের কান্না!


আজো, ওদের সেই বিপদের

চিৎকার, যখন তখন আমার

কানে বাজে--কংক্রিটের দেয়াল

আলগা হয়, মনের আকাশে

ছায় বিষন্নতার মেঘ!

সোনালি, তোরও কি মনে পড়ে,

বিষন্ন সেদিনের কথা?


22/06/2018

মেদিনীপুর।

Copyright@B.Ahir

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হতে পারে

হতে পারে

বাবলু আহির

রান্নাঘর ঘর থেকে ভেসে আসছে শব্দ
অপূর্ব গ্রাম্য ঘ্রাণ চারপাশে
ভালো লাগে দূরে থেকে
অনেক দূরের কোনো ছবি আঁকতে।

দূরত্বের যে রং আমি ব্যবহার করেছি
অনেকে তার নাম দিয়েছে বিষন্নতা
অলসতার সংজ্ঞাও শুনতে হয়েছে
আমাকে ঘিরে আছে খুব পরিচিত দেওয়াল।

দেওয়াল তৈরিটাও একটা শিল্প
একটা প্রয়োজনীয় আঙ্গিক
এসব কিছুকে ফাঁকি দিয়ে
ভেসে যাওয়াটার রং ভেসে যাচ্ছে।

শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ওরা কারা

ওরা কারা


বাবলু আহির


যে গলিতে আমার বাস

এইমাত্র একটা লম্বা মিছিলের স্রোত বয়ে গেল

কেঁপে উঠলো সংকীর্ণ অলিন্দ শ্লোগানের ঝংকারে।

কংক্রিট উঠোনে দাঁড়িয়ে চোখ খুব ব্যস্ত

কার অন্বেষণে জানিনা।


কণ্ঠ থেকে ছিটকে যাওয়া অবাধ্য স্বর

শ্লোগানের সাথে আত্মীয়তা করতে করতে

ফিরে আসে জিজ্ঞাসা হয়ে

কী হলো, চিনতে পারছোনা?

তাপ হারালো কংক্রিট মেঝে

গভীর হলো কপালের ভাঁজ

উত্তরের  অপেক্ষা না করেই এগিয়ে চললো মিছিল!


সারির শেষ অংশও ঝাপসা হয়ে আসে

আবছা স্মৃতির আলোআঁধারিতে

জিজ্ঞাসা হাতড়ে বেড়ায় তার প্রিয় উত্তরকে

স্তম্ভিত দেহের অস্থির মন বারবার জ্বালে আলো

কে যেন আসে আর নিভিয়ে দিয়ে যায় তার শিখা।

ছুটে চলে সন্ধ্যা, গাঢ় হয় আঁধার চাঁদের লোভে

উৎসুক সপ্তর্ষিমণ্ডল ইশারা করে-

মিছিলের সারিতে ওরা কারা?


শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সুরাহা

সুরাহা


বাবলু আহির



সবুজ খেত তার খেলা শেষে

ফিরতে চাইছে ঘরে,

বিরোহী উঠোনে উত্থলে উঠছে

প্রেম ভাপ,শূন্য থালার কথাকলি

তুলসি-মঞ্চ ঘিরে মায়াবী জীবন।


প্রতিরাতে জাপটে ধরেছি একতারা

সাধনার শেষ নেই জেনেও,

সবুজ এসেছে

সুগন্ধ এসেছে

এসেছে সেই নিশাচর বুড়িটাও

ভোর শেষে সকাল এসেছে

কই সুরাহা তো আসেনি আজো।

বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২

খুঁজে পেলাম না

খুঁজে পেলাম না


বাবলু আহির


সেটাও তো একটা বসন্তেরই দিন ছিল

বাসন্তী রঙ ছিল

উৎসবের আমেজ ছিল

আমি জীবন পথের মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম


ব্যথার স্তুপে আগুন জ্বালিয়ে

আমি হাসছিলাম

আমি পা বাড়ালাম

কৃষ্ণচূড়া স্বাগত জানাল-সুস্বাগতম


আমি পৃথিবীর দিকে তাকালাম

চারদিক হেসে উঠলো

পরেরবার আবারো এলাম

কিন্তু সেই কৃষ্ণচূড়াকে আমি খুঁজে পেলাম না।

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

সবুজাভ গন্ধ

সবুজাভ গন্ধ


বাবলু আহির


আমার এই টিনের ঘরে

একটাও জানলা নেই

কোনো মতে আকাশ আর বাতাসকে

আড়াল দিয়ে তৈরি মাথা গোঁজার ঠাঁই।


সে একটা সময় ছিল

বর্তমানটাই ছিল ভবিষ্যতের বেঁচে থাকা

সে একটা সময় ছিল

বসন্তকে ডিঙিয়ে বৈশাখীর আতঙ্ক।

ঝড় থেমে যাবে বলে যারা পাশে ছিল

তাদের বুকেই বসন্ত ছিল

আমার আকাশ জুড়ে ছিল ছেঁড়া কালো পলিথিন

আর কেঁপে ওঠা বাতাস।


বত্রিশটা বসন্ত গেছে নিলামে

শরীর জুড়ে নীলকুঠির সাহেবের হিসাব

লালবাড়ির অবহেলা অন্তরে

শূন্য থালায় মিশে আছে হলুদের সবুজাভ গন্ধ।


সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রহস্যভেদ পুরোহিতের কাজ নয়

রহস্যভেদ পুরোহিতের কাজ নয়


বাবলু আহির


চ্যানেলটা না বদলে বরং ঘুরে আসা যাক

খোলা মাঠে, ঝুল বারান্দায়-অন্তরে

চারিদিকে শুধু সত্যের নিরুদ্দেশ বিজ্ঞপ্তি

নিচে ছোট করে লেখা-পোড়া রুটিতে কি মাখন ছিল?


এভাবে হাত গুটিয়ে

কতক্ষণ বসে থাকা যায়?

বরং জেগে থেকে ঘুমিয়ে পড়া যাক

ততক্ষণ জলের বাষ্পায়ন চলুক।


মাছেরা দলবদল করে?

হুম্, তবে জলের স্তর কমলে কিছু একটা হয়

বক কাদা মাখে?

তা মাখুক,রহস্য ভেদ পুরোহিতের কাজ নয়।



হারিয়ে ফেলেছি

হারিয়ে ফেলেছি

বাবলু আহির

আজ ষোলো বছর পর তোমাকে দেখলাম
ফেসবুকের ফ্রেমে
বাসন্তী রঙের সেই চেনা সাজ
পিঠের উপর খোলা চুল কোমর ছাড়িয়েছে
সানগ্লাসে ঢেকে আছে চোখ
না, কেউ ভুল করেনি
সঠিক সময়েই সংকেত পেয়েছে হৃদয়
পার্কের ফুল গাছগুলোর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলে তুমি
তখন আমি অনেক অনেক দূরে
তবুও অনেক কাছাকাছি মনে হলো
সেই হাসি, সেই মাধুরী
একদিন আমি তোমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম
আমার জীবনের প্রান্তরে
এতো দ্রুত সম্মতি জানিয়ে ছিলে
যে এখনো অবাক হই

ফেসবুক বলছে তুমি ভালো আছো
স্বস্তি পেলাম
তোমার ছবি বলছে তুমি সুখেই আছো
শান্তি পেলাম
তোমার হাসি বলছে তুমি কাঁদতে ভুলে গেছো
খুশি হলাম
কেন কাঁদবে?কার জন্য কাঁদবে?
এতো দিনে আমিও বুঝে গেছি-
কারো কিচ্ছু যায় আসে না

পৃথিবীতে মরুভূমির কোনো প্রয়োজন ছিল কি?
সকলেই উত্তর দিয়েছে
খুঁজে এনে যুক্তির খুঁটিতে বেঁধে
এই বালিকে আঁকড়ে ক্যাকটাস হয়ে আছি
আর কোনো দিন তোমাকে আমন্ত্রণ জানাবো না
এই কাঁটার দেশে, এই বালির দেশে
আত্মরক্ষার নানা কৌশল আমি শিখে গেছি
কাঁটা দিয়েই সাজিয়ে নিয়েছি নিজেকে
ফুলের মতো
চাঁদের আলোয় রূপকথার মতো

সেসব কথা থাক
তুমি নিজেকে গুছিয়ে উঠতে পেরেছো
তার জন্য কুর্নিশ
তোমার সব পছন্দ গুলো স্বাধীনতা পেয়েছে
তার জন্য শুভেচ্ছা
আমি দুঃখিত, তোমার দেখানো পথ
আমি হারিয়ে ফেলেছি।

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ওই ছেলেটা

              ওই ছেলেটা



ওই ছেলেটা, এদিক তাকা

আমার আকাশ তোর মেঘেতে ঢাকা

তোর মনেরই কালো ধোঁয়ায়

আমার আকাশ একলা গোঁঙায়!


আমার আকাশ কিনবি বলে তুই

সুকৌশলে বিলিয়ে দিলি ভুঁই

গিললি যত সমাজ রক্ষার বই

তবুও আমায় বাঁধতে পারলি কই?


ওই ছেলে,বাঁধবি নাকি

পাড়ের বাঁধন, আছে বাকি?

আমার বুকে চলছে সমাজ-ভেলা

ঢেউয়ের সামাল তুই দিবি ক'বেলা?


ওই ছেলেটা,তিন ভাগ যে জল

উঠলে গর্জে বাঁচবে তোর স্থল?

চতুস্পদে হেঁটেই শুধু গেলি

আয় না, এবার পাহাড় চূড়ায় খেলি।