শেষ উপহার
বাবলু আহির
তোমাকে তো দিয়েছি আমার প্রদেয় যথারীতি-
এত্তো টুকু ছিলো না কার্পণ্য!
ঘর্মাক্ত ক্লান্ত দেহে ঘরে ফিরলে
উজাড় করে দিয়েছি সেবার অর্ঘ্য,দিয়েছি বিশুদ্ধ প্রেম।
বিধ্বংসী ঘুর্ণিঝড়ে বুক পেতেছি কতবার!
কতদিন তপ্ত নিঝুম দুপুরে পুড়েছি একাকী-
তবুও ভালোবেসে দিয়ে গেছি দিবানিদ্রার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।
মনে পড়ে, একদিন আমার পিঠে পিঠ দিয়ে
গোধূলির রং মাখতে মাখতে শুনতে চেয়েছিলে
জীবনের সুর প্রেমময় গানে গানে!
সেই জলসায়, সেই আনন্দের মেলায়
আমাকে দিলে তোমার উদার হাসি;
সেই উপহার আজো রাখা আছে হৃদয়ে অতি যতনে!
মনে পড়ে, তোমার মনের কষ্টগুলো কতবার
অশ্রু হয়ে ঝরে গেছে আমার শরীর বেয়ে-নিবিড় আলিঙ্গনে।
মনে পড়ে, তুমি ঘুমিয়ে পড়লেও অন্দরে টেনে নিতে
আমার সুঘ্রাণ...
তুমি বলতে ওটা বাঁচার রসদ !
আমি বলতাম, না গো না !এটা আমার প্রতি তোমার বাড়াবাড়ি!
তুমি অজান্তে পাশ ফিরেই আমাকে না পেয়ে ঘুমের ঘোরে ছুটে আসতে উঠোনে-
দেখতে, আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে;
জ্যোৎস্না রাতে ,চুপিসাড়ে পেছনে এসে জড়িয়ে ধরতে আমায়!
মনে পড়ে,রান্না ঘরে উঁকি দিতে যখন তখন
প্রাতঃরাশের টেবিলে থেকে ভেসে আসতো টুং টাং শব্দ।
মনে পড়ে, তোমার নিজের হাতে আমার মুখে তুলে দিতে গ্রাস;
গ্লাসে জল নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতে অপলক!
আমাকে এত্তো ভালোবাসতে?
কেন তবে আজ এভাবে নীরবে দাঁড়িয়ে?
আমার খণ্ড খণ্ড অঙ্গের স্তুপে কী দেখছো অমন তাকিয়ে?
দেখো, প্রতি খণ্ডে তোমার ভালোবাসা কেমন লেপ্টে আছে!
তোমার থেকে পাওয়া আমার শেষ উপহার..
করাতের দাগগুলো তেমনি আছে আজো!
৯ই আশ্বিন,১৪২৫
মেদিনীপুর
ষ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন